উইকএন্ড সাইড হাসল: শুধু শুক্র ও শনিবার কাজ করে আয় করার ৫টি আইডিয়া

hustle, work, business, leadership, stress, strive, gray business, gray work, gray stress, gray leadership, hustle, hustle, hustle, hustle, hustle

সপ্তাহের পাঁচ বা ছয় দিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর শুক্রবার আর শনিবার আমাদের কাছে আসে পরম স্বস্তির বার্তা নিয়ে। কেউ এই সময়টা ঘুমিয়ে কাটান, কেউ বা নেটফ্লিক্সে মুভি দেখে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই ছুটির দিনগুলোকে কাজে লাগিয়ে মাসে বড় অংকের একটা বাড়তি আয় করা সম্ভব?

আজকাল ডিজিটাল বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে চাকরিজীবীরাও ঝুঁকে পড়ছেন ‘সাইড হাসল’ (Side Hustle)-এর দিকে। আজ আমরা এমন ৫টি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করব, যা আপনি আপনার মূল পড়াশোনা বা চাকরির ক্ষতি না করেই শুধু সপ্তাহান্তে পরিচালনা করতে পারবেন।

 

ইভেন্ট ফটোগ্রাফি ভিডিওগ্রাফি

বাংলাদেশে শুক্রবার শনিবার মানেই বিয়ে, জন্মদিন, গেট-টুগেদার, wcKwbK BZ¨vw`i ধুম পড়ে যায়। এখন আপনার যদি একটি ভালো মানের ক্যামেরা থাকে এবং ছবি তোলার নেশা থাকে, তবে এটি হতে পারে আপনার সেরা সাইড বিজনেস। বর্তমানে ছোট ছোট ঘরোয়া অনুষ্ঠানের জন্যও মানুষ প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার খোঁজে। শুরুতে বন্ধু-বান্ধব বা নিজের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ফ্রি-তে কাজ করে একটি পোর্টফোলিও তৈরি করুন। এরপর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বুকিং নেওয়া শুরু করতে পারেন। এক একটি ইভেন্ট থেকে ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। এমনকি প্রফেশনালরা ১০০০০০-১৫০০০০ টাকাও নিয়ে থাকে।

 

হোম-বেজড কুকিং বা ক্যাটারিং সার্ভিস

আপনি যদি রান্না করতে ভালোবাসেন, তবে আপনার এই গুণটি হতে পারে আয়ের উৎস। ক্লাউড কিচেন এখন অনেক জনপ্রিয়। আপনি ফুডপান্ডা বা পাঠাও এর মত প্লাটফর্ম গুলোর সাথেও কাজ্ করতে পারেন আবার নিজের ফেসবুক পেজ খুলেও মার্কেটিং করে কাস্টমার জেনারেট করতে পারেন। সপ্তাহের এই দুদিন অনেক চাকুরিজীবী, ব্যাচেলররা বা ঘরোয়া আড্ডায় রান্নার ঝামেলায় না গিয়ে বাহিরে থেকে খাবার অর্ডার করে। আপনি এই দায়িত্ব নিতে পারেন। আপনার এলাকার আশেপাশের মানুষজন কে টার্গেট করুন। নিজের কিচেন এর পরিধি ছোট হলেও সমস্যা নাই আপনি যদি বড় অর্ডার পেয়ে যান তবে যে কোন ক্যাটারিং থেকে রান্না করিয়ে নিতে পারেন। প্রতি প্যাকেট এ অল্প  কিছু লাভ রেখে সাপ্লাই দিন। কোন পরিশ্রম ছাড়াই আপনার একটা এক্সট্রা ইনকাম হলো।

 

স্কিল-বেজড ওয়ার্কশপ বা টিউটরিং

আপনার কি এমন কোনো দক্ষতা আছে যা অন্যরা শিখতে চায়? হতে পারে সেটা গিটার বাজানো, গ্রাফিক ডিজাইন, ইংরেজি বলা কিংবা হাতের কাজ। স্কিল ডেভেলপমেন্ট এখন অনেক ট্রেন্ডি। শিশু থেকে শুরু করে সকল বয়সি লোকজন এখন কিছু না কিছু শিখতে চায়। আপনি আপনার বাসায় বা অনলাইনে শুধু শুক্র ও শনিবারের জন্য ২ ঘণ্টার একটি শর্ট কোর্স বা ওয়ার্কশপ আয়োজন করতে পারেন। ১০ জন ছাত্রকে মাসে ৮ দিন পড়িয়েও অনায়াসে ভালো পরিমান বাড়তি আয় করা সম্ভব।

 

গাইড বা ট্রাভেল কনসালটেন্সি (ডে ট্রিপ)

বর্তমানে ঢাকার আশেপাশে একদিনে ঘুরে আসা যায় এমন জায়গার (যেমন: আড়িয়াল বিল, মৈনট ঘাট বা সোনারগাঁও) জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আপনি যদি ভ্রমণপ্রিয় হন, তবে ছোট ছোট ‘উইকএন্ড ট্রিপ’ আয়োজন করতে পারেন। আপনি যাতায়াত, দুপুরের খাবার এবং গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মানুষ ঘুরতে চায় কিন্তু প্ল্যান করার ঝক্কি নিতে চায় না। আপনি সেই ঝক্কিটুকু নিলে মানুষ সানন্দে আপনাকে পে করবে। এখানে বিনিয়োগ প্রায় শূন্য, কেবল ভালো ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা থাকলেই চলে।

 

থ্রি-ডি প্রিন্টিং বা পার্সোনালাইজড গিফট আইটেম

নতুন প্রজন্মের ক্রেতারা এখন গতানুগতিক উপহারের চেয়ে ইউনিক কিছু পছন্দ করে। আপনি যদি ক্রিয়েটিভ হন, তবে পার্সোনালাইজড মগ, টি-শার্ট বা বর্তমানে জনপ্রিয় থ্রি-ডি প্রিন্টেড গ্যাজেট নিয়ে কাজ করতে পারেন। সারাসপ্তাহ আপনি অনলাইনে অর্ডার নেবেন এবং ছুটির এই দুদিন ফিনিশিং ও ডেলিভারির কাজ করবেন। গিফট আইটেমের বাজার বাংলাদেশে সারাবছরই রমরমা থাকে।

 

কিছু জরুরি পরামর্শ:

ছোট থেকে শুরু করুন। শুরুতেই অনেক টাকা বিনিয়োগ না করে আপনার যা আছে তা দিয়েই শুরু করুন। একটি ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম পেজ খুলে আপনার কাজের প্রচার চালান। ধৈর্য ধরুনযেকোনো ব্যবসা দাঁড়াতে ৩-৬ মাস সময় লাগে। নিয়মিত কাজ করে যান। আপনার অলস সময়টাকে সম্পদে পরিণত করার নামই হলো বুদ্ধিমত্তার বিনিয়োগ।