ব্যবসায়ীরা কোনকিছু কিনে পরবর্তীতে লাভে বিক্রয় করে মুনাফা করেন এটা আমরা সবাই জানি। তবে সফল ব্যবসায়ীরা কিন্তু বিক্রয়ের সময় মুনাফা করেন না তারা মুনাফা করেন কেনার সময়। তারা সুযোগ খুজেন কখন তাদের কাঙ্ক্ষিত জিনিসের দাম কমবে আর তারা বিনিয়োগ করবেন। এরপর নিশ্চিন্ত মনে বসে থাকেন দাম বাড়লে বিক্রয় করে লাভ তুলে নেন।
শেয়ার বাজারে ঠিক এই কাজটি করাকেই বলা হয় “ভ্যালু ইনভেস্টিং” (Value Investing)। অর্থাৎ, একটি ভালো কোম্পানির শেয়ার তার আসল দামের (Intrinsic Value) চেয়ে কমে কেনা। ওয়ারেন বাফেট (Warren Buffett) ঠিক এই পদ্ধতি ব্যবহার করেই বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হয়েছেন। আজকে আমরা জানব, কীভাবে আপনি ডিএসইতে (DSE) ভ্যালু ইনভেস্টিং করবেন এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৫টি উদাহরণ দেখব যা ভ্যালু স্টক হিসেবে পরিচিত।
ভ্যালু ইনভেস্টিং আসলে কী? (What is Value Investing?)
সহজ কথায়, ভ্যালু ইনভেস্টিং হলো—
১. একটি দুর্দান্ত স্টক খুঁজে বের করা।
২. অপেক্ষা করা কখন কোনো কারণে (বাজারের পতন বা খারাপ সংবাদ) তার শেয়ারের দাম কমে যায়।
৩. এবং সেই সস্তা দামে শেয়ারটি কিনে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা।
বাজার যখন আবেগে চলে, তখন ভালো শেয়ারের দামও কমে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময় শেয়ারের দাম কমে যেমন, প্রতি বছর ডিভিডেন্ট ঘোষনার পর, রেকর্ড ডেটের পর, প্রতি কোয়ার্টারে আর্থিক রিপোর্ট প্রকাশের পর, কোম্পানীর যেকোন খারাপ নিউজের পর ইত্যাদি। ভ্যালু ইনভেস্টররা ঠিক সেই সুযোগটিই নেন। তারা শেয়ারের “বাজার দর” (Price) দেখেন না, তারা দেখেন শেয়ারের “প্রকৃত মূল্য” (Value)।
ডিএসইতে ভ্যালু স্টক খুঁজে বের করার চেকলিস্ট
আপনি নিজেও ভ্যালু স্টক খুঁজে বের করতে পারেন যদি নিচের ৩টি বিষয় চেক করেন:
১। P/E Ratio (Price to Earnings): পি/ই রেশিও বা প্রাইস-আর্নিংস রেশিও হলো একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম তার আর্নিংস পার শেয়ার (EPS) এর সাথে তুলনা করে কোম্পানির মূল্য নির্ধারণের একটি পদ্ধতি।
উদাহরন স্বরূপ কোন কোম্পানীর শেয়ার মূল্য ২৫০ টাকা এবং এর বর্তমান আর্নিং পার শেয়ার ২৫ টাকা তাহলে এর P/E ratio হবে ১০। সাধারনত P/E ratio ১৫ এর নিচে হলে সেটাকে ভ্যালু শেয়ার বলা হয়।
২। ডিভিডেন্ড ইতিহাস: কোম্পানিটি কি গত ৫-১০ বছর নিয়মিত ডিভিডেন্ড দিয়েছে কিনা লক্ষ্য করুন। সাধারনত ১০ শতাংশের উপরে ডিভিডেন্ড দেয়া কোম্পানী গুলো ভ্যালু শেয়ার। তবে কিছু ক্ষেত্রে ৫-১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেয়া কোম্পান্ড গুলোও বাজারে ভালো চাহিদা থাকে। সেক্ষেত্রে দামের ইতিহাস ভালোভাবে লক্ষ্য রাখুন।
৩। কোম্পানীর ঋণ: কোম্পানির ঘাড়ে কি খুব বেশি ঋণ আছে? ঋন বেশী থাকলে কোম্পানী যতই ভালো হোক তার ঋন পরিশোধ করতেই সব লাভের অংশ চলে যায়। বছর শেষে তারা ডিভিডেন্ডও কম দেয়। এই ধরনের কোম্পানি গুলোর দামের উঠানামা কম হয়। ফলে ভ্যালু ইনভেস্টরদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
এই তিনটি পয়েন্টের বাহিরেও যেসকল বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেগুলো হলো ঃ
- ইপিএস
- ৫২ সপ্তাহের দামের গড়
- কোম্পানির পরিচালকগন কত শতাংশ শেয়ার হোল্ড করেন
- নেট এসেস ভ্যালু
মনে রাখবেন, ভ্যালু ইনভেস্টিং কোনো “দ্রুত বড়লোক হওয়ার স্কিম” নয়। এটি একটি ধৈর্যের খেলা। আপনি আজ একটি ভালো শেয়ার সস্তায় কিনলেন, এর সুফল হয়তো আপনি ১ বা ২ বছর পর পাবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, “শেয়ারের দাম ওঠানামা করে, কিন্তু ভ্যালু বা মান সব সময় টিকে থাকে।”
(Disclaimer: এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো বাই/সেল রিকমেন্ডেশন নয়। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। বিনিয়োগের আগে নিজস্ব বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করুন।)
